youremail@gmail.com শুক্রবার, ১লা মার্চ ২০২৪, ১৮ই ফাল্গুন ১৪৩০
ব্রেকিং:
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হাই-টেকসহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী চীন। পিএসজি ছাড়তে চান নেইমার, নতুন ঠিকানা হিসেবে পছন্দ প্রিমিয়ার লিগ

ভাগ্য ইস্যুতে একই গ্রুপে সিলেট ও সালাউদ্দিনরা !

Anwarul Masum

প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:৩৭

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম! ক্রিকেট পিপাসু মানুষদের কাছে অনন্য-অসাধারণ। গ্যালারীতে বসে উল্লাস করতে না পারা কিংবা কখনোই সরাসরি না দেখা অসংখ্য মানুষ হরহামেশা বলে উঠেন ওয়াও। তবে এই মাঠের ভাগ্য নিয়ে চরম হতাশ স্থানীয় দর্শক থেকে শুরু করে খোদ বিসিবি পরিচালক। কেননা মাঠের চারপাশের পরিবেশ মনোরম হলেও মনোনিবেশ নেই বোর্ড কর্তাদের। 

বিপিএল চলছে! চলমান আসরে খুব বেশি ম্যাচ নেই এই স্টেডিয়ামে। কর্তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে অনেকেই বিসিবির সৎ সন্তান ট্যাগ যুক্ত করেছেন স্টেডিয়ামটির নামের সাথে। আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের কোন ম্যাচ রাখা হয়নি এই ভেন্যুতে। অথচ সিলেটের প্রচুর মানুষ ইংল্যান্ডে বিভিন্ন কারনেই বসবাস করেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন এখানে ইংল্যান্ড দল আসলে তারাই খুশি হতো। যদিও বিসিবির পক্ষ্য থেকে জানানো হয়েছে ইংলিশরা আগ্রহী নয় তিন ভেন্যুতে খেলতে। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রধান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল আক্ষেপ করেই বলেছেন এখন সিলেটে সেভেন স্টার খুঁজতে হবে। 

নাদেল স্পষ্ট করে আক্ষেপ প্রকাশকালে বলেছেন, 'এখানে যে ফ্যাসিলিটি আছে সেটা তো অন্য জায়গায় এভাবে নেই। তারা আসতে চাইবে না, এটা আমি জানি না আসলে। একটা সময় অজুহাত ছিল যে এখানে ফাইভ স্টার হোটেল নেই। এখন কি সেই অজুহাত দেয়ার সুযোগ আছে... এখন হয়তো আমাদের সেভেন স্টার খুঁজতে হবে। ফাইভ স্টার তো হয়ে গেছে।'

বাংলাদেশ ক্রিকেট কর্তাদের সাথে সমালোচনা মিলেমিশে একাকার। অধিকাশ পরিকল্পনা হয়না দীর্ঘ মেয়াদি।  সিলেট স্টেডিয়াম এবং দেশীয় কোচদের ভাগ্য পেন্ডুলামের মত দুলছে বরাবরই। 

সিলেটে শতভাগ আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকার পরেও ম্যাচ সংখ্যা নগন্ন। অপরদিকে বাংলাদেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টূর্ণামেন্ট বিপিএল থেকে শুরু করে ঘরোয়া লিগগুলোতে দেশীয় কোচদের অধীনে দলগুলো সফলতা পেলেও জাতীয় দলে তাদের দায়িত্ব দেওয়ার কোন পদক্ষেপ দেখা যায়না বিসিবির। 

প্রতিবেশী ভারত তাদের সমস্ত পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন দেশীয় সাবেকদের নিয়ে। একই পথের পথিক হচ্ছে উইন্ডিজ। বছরজুড়ে দলের মেন্টর হিসেবে ব্রায়ান লারাকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। ভিন্ন কিছু বেঁছে নিতে অনন্য বিসিবি, শুধু মিলেনা কাঙ্খিত সফলতা। 

বিসিবিকে নিয়ে সমালোচনা করা হোক কিংবা ট্রল। দিনশেষে দেশের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করাই সংস্থাটির প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকেই হাই-প্রোফাইল কোচ নিয়ে আসে দায়িত্বে থাকা মানুষজন। তবে দেশের ক্রিকেটের অনেকেই বিশেষ করে ঘরোয়া পর্যায় থেকে উঠে আসা অনেক ক্রিকেটার বুঝেন না ইংরেজি। যার ফলে বাক প্রতিবন্ধী আকসারের মতই বুঝে নিতে হয় আকারে ইঙ্গিতে। 

ক্রিকেটাররা ইংরেজি বুঝে না, এটি ব্যক্তিগত কোন মতামত নয়। ২০২০ বিপিএল চলাকালীন এমন এক অভিযোগ করেছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচিত ও নামী মুখ হার্শেল গিবস। 

গিবস বলেছিলেন, ‘স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে একটি বড় বাঁধা হলো, তাদের অনেকেই ইংরেজি বোঝে না। আমার জন্য তাই তাদেরকে অনেক কিছুই বোঝানো কঠিন। এটি খুবই হতাশার। আমি যখন কথা বলি, দেখি যে তারা শুনছে। কিন্তু দেখেই বুঝতে পারছি যে, এসব তাদের মাথায় ঢুকছে না। অনুধাবন করতে পারছে না।’

গিবসের এমন কথায় বছর তিনেক আগে পরিস্কার হয়েছিল অনেক কিছুই। এবারের বিপিএলে উড়ছে সিলেট। পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে দুইয়ে থাকলেও দাপট দেখিয়েছে ম্যাশের দল। দলের এমন সাফল্যে ভালো কমিউনিকেশনকে প্রাধান্য দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বোঝার সুবিধার্তে মনে রাখা ভালো দলটির দায়িত্বে কোচিং প্যানেলের সকলেই বাঙালি। 

ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি হেড কোচ পদে দায়িত্ব নিতে চাওয়া চন্ডিকা হাথুরুসিংহ না বলেছেন বিসিবিকে। এবার কি দেশীয়দের সুযোগ দিবে বিসিবি। খুব বেশি না হলেও ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সিরিজে অন্তত বাজিয়ে দেখা যেতেই পারেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন,রাজিন সালেহদের। 

 

-ডটবল

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর

Chat with us